কাপাসিয়ায় সাংবাদিক হামলাকারী আসামি ওসির কক্ষে চেয়ারে! সাংবাদিক মহলের তীব্র নিন্দা

প্রকাশিত: ২:০০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৫

জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সরকারি বন উজাড়ের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বনদস্যুদের হামলায় তিন সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটকের পর এক চাঞ্চল্যকর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো সেই আসামি থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে চেয়ারে বসা অবস্থায় ছবি তোলায় সাংবাদিক মহল এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জ্ঞাপন করেছেন।

​মঙ্গলবার বিকেলে কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের পারীরটেক এলাকায় সরকারি বন বিভাগের গজারি গাছ কেটে লুটপাটের খবর ও ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে স্থানীয় চিহ্নিত বনদস্যু ও তাদের দলবলের হামলায় তিন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবুল কাশেম ওরফে ‘গজারী কাশেম’ সহ তিনজনকে আটক করে। ​কিন্তু আটকের পর আবুল কাশেমকে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে বিশেষ সুবিধা দিয়ে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখা যায়। এমন একজন গুরুতর অভিযুক্তকে থানার কক্ষে দাপট দেখানোর সুযোগ দেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ও সাংবাদিক মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

​বিএমএসএফ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি সরকারি সম্পদ ধ্বংস করেছে এবং সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, সে একজন গুরুতর আসামি। সেই আসামিকে থানায় ওসির কক্ষে চেয়ারে বসতে দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক, দুঃখজনক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ।” তিনি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

​আহত সাংবাদিকরা হলেন, দৈনিক নয়া দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া জেলা প্রতিনিধি মো. মোজাহিদ, দৈনিক আমার সংবাদের এস এম জহিরুল ইসলাম এবং দৈনিক আলোকিত সকালের হুমায়ুন কবির। তারা বর্তমানে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের আঘাত গুরুতর হলেও তারা শঙ্কামুক্ত।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ‘গজারী কাশেম’ শতাধিক গজারি গাছ কেটে পাচার করে আসছিলেন। গাছ কাটার খবর পেয়ে সাংবাদিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, মূল অভিযুক্ত আবুল কাশেম, তার ছেলে আল আমিন এবং সহযোগী মামুনের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার মুখে সাংবাদিক এস এম জহিরুল ইসলাম ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন অভিযুক্তকে আটক করে।

​সাংবাদিক মহলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ), গাজীপুর জেলা ঐক্য পরিষদ, আইনী সহায়তা কেন্দ্র (আসক) আন্তর্জাতিক  মানবাধিকার সংগঠন (গাজীপুর জেলা কমিটি) ও গাছা প্রেসক্লাব একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে তারা বন অপরাধী ও তাদের সহযোগী হামলাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং বলেন, আসামির এই দাপট আহত সাংবাদিক এবং সমগ্র সাংবাদিক সমাজের জন্য চরম অবমাননাকর।

​কাপাসিয়া থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন আইনে অপরাধ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে ওসির কক্ষে আসামির বসার বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনা একদিকে যেমন পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের চিত্র দেখিয়েছে, তেমনি অভিযুক্তদের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।