গাজীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ ছুরিকাঘাতে ১ জন নিহত, গুরুতর আহত ১

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৫

(এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা)

​জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ঃ

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩৭ নং ওয়ার্ডের কুনিয়া তারগাছ এলাকায় বেলাল নগর রোডে এক ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৭টার দিকে আক্তারের বাড়ির সামনে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত যুবকের নাম মারুফ (২২), পিতা আব্দুর রাজ্জাক। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন আতাউল্লাহর ছেলে জামিল (২৪), যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত জামিল একটি সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি তাঁর বাড়ির সামনের একটি দোকানে সিগারেটের বকেয়া বিল আনতে যান। সেখানে পূর্ব থেকেই এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪-৫ জন হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। জামিল তাদের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে রবি’র সাথে তার তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।

​তর্কের এক পর্যায়ে জামিলের বন্ধু মারুফ সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়। আহত জামিল পুলিশকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তারা মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল এবং বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তাদের এই গ্যাংয়ের হাতেই জামিল ও মারুফ হামলার শিকার হন। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে অভিযুক্ত রবি ও তার দলবল ক্ষিপ্ত হয়ে জামিল ও মারুফ উভয়কে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

মারুফকে গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত তারুন্নেসা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত জামিলকে তাৎক্ষণিকভাবে বড়বাড়ি ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে তাঁকে গাজীপুর তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল অ্যান্ড কলেজে রেফার্ড করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর কুনিয়া তারগাছ গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ ৮/১০ জন তাদের গ্যাংটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং ছোটখাটো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত থাকলেও, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এই গ্যাংয়ের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ সবসময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, “আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ টিম এবং তদন্ত অফিসার সহ আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

​ওসি আমিনুল ইসলাম আরও জানান, “আহত জামিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের ধরতে আমাদের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

​এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কিশোর গ্যাংয়ের লাগামহীন অপকর্ম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, অবিলম্বে এই কিশোর গ্যাংয়ের সকল সদস্যকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে এলাকায় আরও বড় ধরনের অপরাধ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।