ঝুট ব্যবসায়ীর কাছে লাখ টাকা গেঞ্জি চাইলেন ওসি Abdul Hamid Abdul Hamid Khan প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২৫ মোঃ নজরুল ইসলাম ঃ গাজীপুরের শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডলের সাথে একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে ওসির সঙ্গে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা গ্রামের ঝুট ব্যবসায়ী সেলিম সিকদার কথা বলেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর থেকেই ওসি বিভিন্ন ভাবে তাকে হুমকি অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঝুট ব্যবসায়ী সেলিম সিকদার নিজেই রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং ওসি তাকে অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। ঝুট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ লেনদেন নিয়ে ওসি বলেন, তুমি তো আমাকে গেঞ্জি দিলা না, ফুল হাতা। আচ্ছা ঢাকা থেকে নিয়ে আসবা। তোমার নানা আমাকে দেখে না কেন? ৫ হাজার ১০ হাজার এটা কোনো টাকা? এই টাকা দিয়ে কী হয়। আমি এতো চাপ নিচ্ছি। তোমার নানাকে বইলো আমাকে লাখ পাঁচেক টাকা দিতে। তবে ওসি বলছেন একটি চক্র তার কথা এডিট (সম্পাদনা) করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছড়িয়ে দিয়েছে। সেলিম শিকদার বলেন, অনেক টেনশনে আছি, অনেক হুমকি (থ্রেড) খাইলাম। আমার এক আত্মীয় আছে, তার মাধ্যমে গত রোববার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকেই ওসি ফোন দিতাছে। পরে রাতে যখন রেকর্ড ফাঁস হয়ে গেছে, তখন আর ফোন দেয় নাই। ওনার তৈরি করা একটি লেখা (প্রেসক্রিপশন) আমাকে ধরাইয়া দিছে। কয় এভাবে এভাবে ফেসবুক লাইভে এসে বলবেন এই রেকর্ড ভুয়া, তাহলে আমার কোনো প্রবলেম হবে না, আপনারও কোনো প্রবলেম হবে না। নইলে কিন্তু আপনার খবর আছে। তিনি জানান, উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা গ্রামে ফর্মূলা ওয়ান স্পিনিং মিলস্ লিমিটেড কারখানা তার (সেলিম শিকদার) নানা ১০/১৫ বছর আগে জমি কিনে দেওয়াসহ কারখানা স্থাপনে সহযোগিতা করেন। এ সুবাদে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা ঝুট ব্যবসাসহ কারখানার ভালোমন্দ দেখে আসছি, এখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে ব্যবসা করতাম না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও আমাদের ব্যবসায় বাধা দিয়েছিল। কিন্তু কারখানার মালিক বলেছিল, যেহেতু ওনি আমার কারখানার জায়গা জমি কিনে দিয়েছে এই সূত্রে ওনাকে ব্যবসা দিয়েছি। এখানে রাজনৈতিক লোকের কোনো কাজ হয়নি আরকি। এই সূত্রে আমরা ব্যবসা করতাম। সেলিম শিকদার আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে ওসি থানায় আসার পর পুরনো এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) কাছ থেকে আমার নম্বর সংগ্রহ করে আমাকে ফোন দিয়ে থানায় যাইতে বলছে। থানায় যাওয়ার পর ওসি বলছে যদি ব্যবসা করতে চান তাহলে আমাকে মান্থলি টাকা দিতে হবে দুই লাখ করে। তো প্রথম দিন আমি পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। তারপরে ওনারে বললাম স্যার ব্যবসায় হয় ২/৩ লাখ টাকা। আপনারে দুই লাখ টাকা দিয়া দেই তাহলে কীভাবে হবে। পরে ওই জায়গায় এক লাখ টাকা মাসে তার সঙ্গে চুক্তি হলো। এক লাখ টাকা করে দিয়েছিলাম। প্রথম মাসে এক লাখই নিছিলো, পরের মাসে দুই লাখ। দেড় লাখ দুই লাখ এরকম করে নিতো। এছাড়াও সাহাবুদ্দিন নামে ৫০ হাজার, আমার খালু জাকিরের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। অডিওতে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে ওসিকে বললাম, ব্যবসা বাণিজ্য ওই রকম নাই। যে দুই লাখ টাকা বলছেন সেই দুই লাখ টাকা আমি দেব। কিন্তু ৫ লাখ টাকা দিতে পারবো না। পরে এই টাকা না দেওয়াতে, আমাকে যেকোনো নেতার মাধ্যমে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করে। পরে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ১০ লাখ টাকা দিতে হবে, নইলে ১০টা হত্যা মামলা দিয়ে দেবে। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের শর্তে বাসায় গরু বিক্রির আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওনি বলেছিলেন ৫৪ ধারায় চালান দিয়েছিল। টাকা হাতে পাওয়ার পর ওসি থানায় আসেনি। আমাকে আদালতে নেওয়ার পর আর তিনি থানায় আসেন। পরে আমাকে একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলায় চালান দেওয়া হয়। ফোনে ধারণ করা রেকর্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, মাস কয়েক আগে শ্রীপুর পৌরসভার তুলা গবেষনা মাঠ এলাকায় ওসি আমাকে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে আমি ব্যবসা করলে তাকে টাকা দিতে হবে। শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, এটা আমি শুনেছি, এটা আমার কণ্ঠ না। আমার কথা এডিট (সম্পাদনা) করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে একটি চক্র। গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. চৌধুরী যাবের সাদেকের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 📸 Download News PhotoCard (1080×1080) SHARES অপরাধ বিষয়: