গাজীপুরকে ‘স্মার্ট নগরী’ গড়ার অঙ্গীকার, উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে জিএমসি

প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২৫
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের কল্যাণ হবে প্রধান লক্ষ্য
জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ঃ
গাজীপুরকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য ‘স্মার্ট নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিএমসি)।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ কর্পোরেশন সভায় জিএমসির প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার সরফ উদ্দিন আহমেদ এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “উন্নয়ন মানে কেবল অবকাঠামো নয়—মানুষের জীবনমান, সেবা ও নিরাপত্তার সামগ্রিক উন্নয়ন।” উন্নয়ন এখন কেন্দ্রবিন্দুতে সভায় রাজস্ব তহবিল থেকে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
প্রশাসক সরফ উদ্দিন আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, গাজীপুর এখন উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিকদের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা চাই উন্নয়ন হোক মানুষের অংশগ্রহণে, স্বচ্ছতা ও সময়নিষ্ঠার সঙ্গে। জনগণের টাকায় জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। প্রতিটি কাজের মান বজায় রেখে গাজীপুরকে নাগরিকবান্ধব ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করতে আমরা বদ্ধপরিকর।” তিনি দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নতুন দিগন্তের পথে জিএমসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান সভায় জানান, জিএমসি অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে। জমি ক্রয়সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। তিনি বলেন, এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হলে গাজীপুর শুধু একটি আধুনিক নগরী নয়, বরং দেশের উন্নয়ন সভায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিক চাহিদা বিবেচনায় অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের তালিকা প্রণয়ন ও পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান, সচিব আমিন আল পারভেজসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান ও প্রকৌশলীবৃন্দ।
সভা শেষে প্রশাসক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলমান এই কর্মযজ্ঞ অচিরেই একটি স্মার্ট ও বাসযোগ্য গাজীপুর বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।